সারাদেশ

শ্রীপুরে ঘুমন্ত স্বামীকে গ-লা কে*টে হ-ত্যা-র অভিযোগ, স্ত্রী পুলিশ হেফাজতে

তাসিফ জামানমাগুরা প্রতিনিধি : ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ এ ৪:৫৪ PM ৮৩৪৫
শ্রীপুরে ঘুমন্ত স্বামীকে গ-লা কে*টে হ-ত্যা-র অভিযোগ, স্ত্রী পুলিশ হেফাজতে

মাগুরার শ্রীপুরে ঘুমন্ত স্বামীকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলা কেটে হত্যার অভিযোগ উঠেছে স্ত্রীর বিরুদ্ধে। শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) ভোরে উপজেলার আমলসার ইউনিয়নের পশ্চিম রাজাপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত স্ত্রী ফারজানা আক্তারকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।

নিহত মো. রাব্বি মন্ডল (৩২) পশ্চিম রাজাপুর গ্রামের মো. নজরুল মন্ডলের ছেলে। তিনি বালুর ব্যবসা করতেন। তার পাঁচ বছর বয়সী একটি মেয়ে রয়েছে। অভিযুক্ত স্ত্রী ফারজানা আক্তার (২৭) পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা বলে জানা গেছে।

নিহতের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার রাত থেকে রাব্বি ও তার স্ত্রী ফারজানার মধ্যে পারিবারিক কলহ চলছিল। এর জেরে শুক্রবার ভোরে নিজ ঘরে ঘুমন্ত অবস্থায় রাব্বির গলা ধারালো অস্ত্র দিয়ে কেটে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

নিহতের পরিবারের দাবি, শুক্রবার সকাল ৮টার দিকে ফারজানার বাবা ফয়জার ফোন করে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া ও মারামারির কথা জানান। খবর পেয়ে রাব্বির বাবা বাড়িতে গিয়ে ছেলের রক্তাক্ত মরদেহ খাটের ওপর পড়ে থাকতে দেখেন।

ঘটনার পর ফারজানা তার বাবার বাড়ি উপজেলার আমতৈল গ্রামে চলে যান বলে জানা গেছে। পরে পুলিশ তাকে হেফাজতে নেয়। এ সময় হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি দা জব্দ করা হয়েছে।

নিহতের বাবা নজরুল মন্ডল বলেন, “রাব্বি ১০ থেকে ১২ দিন আগে শ্বশুরবাড়ি আমতৈল গ্রামে গিয়েছিল। সেখানে শ্বশুরবাড়ির লোকজনের সঙ্গে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে তাকে মারধর করা হয়। আজ সকালে খবর পেয়ে বাড়িতে গিয়ে দেখি, আমার ছেলে রক্তাক্ত অবস্থায় খাটের ওপর পড়ে আছে। আমরা এ হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার চাই।”

খবর পেয়ে শ্রীপুর থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে। পরে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) ক্রাইম সিন ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করে।

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা বের করার দাবি জানিয়েছেন।

শ্রীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আইনগত প্রক্রিয়া শুরু করেছে। প্রাথমিকভাবে পারিবারিক কলহের জেরে এ ঘটনা ঘটতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অভিযুক্ত ফারজানা আক্তারকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত চলছে।

পুলিশ জানায়, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। তদন্ত শেষে এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে।

সম্পর্কিত খবর